রাসেল চৌধুরী :
‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো, নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’ প্রতিপাদ্যে আজ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে উদ্যাপিত হচ্ছে দিবসটি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অধিকার রক্ষা, নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর প্রতি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠাই এবারের নারী দিবসের মূল লক্ষ্য।
দেশে দেশে নারীদের প্রতি যে বৈষম্য, নির্যাতন আর অবজ্ঞা-উপেক্ষা চোখে পড়ে তার বিরুদ্ধে গণমানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও তাহাদেরকে প্রতিবাদী ভূমিকায় অবতীর্ণ করতে এই দিনটি যেন নারী জাগরণের অভয়বাণী বহন করে। নারী দিবসের আবাহন নিয়ত ও আবেদন শাশ্বত। নারীর সমঅধিকার আর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামী পথ পরিক্রমণে বাংলাদেশের নারীরাও তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের দেশে একদিকে যেমন সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারীদের গৌরবময় সাফল্য ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে, অন্যদিকে তেমনই আবার নারীদের প্রতি বৈষম্য আর নির্যাতন, অবিচার-অত্যাচারের চিত্রও কম চোখে পড়ে না। আমরা শিক্ষা-দীক্ষায়, মেধা-যোগ্যতায়, এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও নারীদের যে অভাবিত সাফল্যজনক ভূমিকা পালন করতে দেখি, তাহা এক কথায় বিস্ময়কর। আবার যখন নারী নির্যাতন আর বৈষম্যের কালিমালিপ্ত চেহারাটি ফুটিয়া উঠিতে দেখা যায় তখন নারীর এই অগ্রযাত্রা অনেকটাই নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে ।
পাশ্চাত্যের নারীবাদী দর্শনের যে অংশ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তার স্বাধীনতার নামে প্রকারান্তরে তাকে ফুটন্ত কড়াই হইতে জ্বলন্ত চুলায় নিক্ষেপ করছে, বাংলাদেশের নারীরা সে পথ নিশ্চয়ই পাড়ি দিতে আগ্রহী নয়। আমাদের দেশের নারীরা আমাদের সভ্যতা, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য চেতনার সহিত সম্পৃক্ত পথ ধরে অভীষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হইতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে তো কাম্য। কবি যে বলিয়াছেন, ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’ এটা শুধু কেবলই কথার কথা? একটু গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করলে এই কথার সারবত্তা উপলব্ধি করা কঠিন নয়।
নারীর কর্মনিষ্ঠা, সংস্কৃতি চেতনা আর অপত্য স্নেহ-মায়া-মমতা সুধায় জগত্ সংসারে এক অপার্থিব প্রেরণা সঞ্চারিত হয়। মানবজীবনে ও প্রকৃতিতে এই সুধারস সর্বত্রই প্রকটভাবে দৃশ্যমান। আর এই সারসত্যকে হূদয়ঙ্গম করতে কারো কষ্ট হয় না নিশ্চয়ই। এখানে কর্মজীবনে নারী অনেক অনেক সাফল্যের স্বাক্ষর বহন করিয়া চলিয়াছে।
নারীকে আপন ভাগ্য জয় করার অধিকার হইতে বঞ্চিত রাখার দিন শেষ। অবশ্য নারীর উপর হিংসাশ্রয়ী ও পাশবিক নির্যাতন চালাইবার মতো পরিস্থিতি এখনো সমাজের অভ্যন্তরে দগদগে ঘায়ের মতো চেপে আছে। এই অপশক্তিকে দমন করতে বিদ্রোহী কবি ‘জাগো নারী জাগো বহ্নি শিখা’ বলিয়া তাদেরকে জাগিয়া উঠার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের নারীরা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের মতো আত্মবলে বলীয়ান হইয়া বিশ্বসভায় নিজস্ব সভ্যতা সংস্কৃতির ধারায় নিজেদের আসন একদিন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হইবে অনায়াসে সে ভরসা করা যায় নিশ্চয়ই। আর যার প্রমানও রাখছেন বাঙ্গারী নারীরা। নারী আর তাদের মেধা প্রজ্ঞা ও দৃঢ় চিত্তের মধ্যে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। সফল হচ্ছেন সবক্ষেত্রে।
নার্গিস আক্তার :
যিনি বর্তমানে একজন সফল উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও স্যোশাল ওয়ার্কার। নার্গিস আক্তার তার নিজের পরিশ্রম দিয়ে পথে পথে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে একজন সফল ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা। ২০০১ সালে নার্গিস আক্তার থাই কালেকশন নামে একটি বিদেশী পণ্যের শপ দিয়ে ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন এর পর তিনি আর কখনোই দমে যাননি । নিজের মেধা, মননশীলতা, কর্মনিষ্ঠা এবং একাগ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
মাত্র অল্প পুঁজি নিয়ে “থাই কালেকশন” শপ দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সেই ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে এখন বৃহত্তর রূপ নেয়। তার প্রতিষ্ঠানে বিদেশী থ্রি-পিস, ব্লক থ্রি-পিস, হ্যান্ডপ্রিন্ট, ওড়না, ওয়ান পিস, শিশুদের পোশাক, বেডশিট, শাড়ি ও উপহার সামগ্রী, কসমেটিক, বাচ্চাদের নানা পন্যসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে । এছাড়াও তার প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বেশ কয়েকজন নারী।
ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন নার্গিস আক্তার। তার পিতা মোজাফ্ফর হোসাইন।স্বামীও একজন সফল ব্যবসায়ী। এক ছেলে ও এক মেয়ের জননীনার্গিস আক্তার ব্যবসার পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছে স্যোশাল ওয়ার্ক।
নার্গিস আক্তার ২০০১ সালে শুরু করে ব্যবসায় ‘ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রশংসা দেখে তার মনোবল এবং কাজ করার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বের নানা দেশ দেশী কালেকশন এনে ব্যবসায়ের পরিধি প্রসারিত হতে থাকে। বর্তমানে তার ব্যবসার পরিসর খুব বেশি না হলেও অল্প সময়ের মধ্যে অনেক ভালো পর্যায়ে যেতে পেরেছেন। দিন দিন ব্যবসার পরিসর বাড়ছে। বর্তমানে তিনি অর্থনৈতিকভাবে বেশ স্বাবলম্বী। তাছাড়া অনেকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছেন। মাসিক আয় প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এবং বিদেশে পণ্য সরবরাহ করি। এছাড়া পণ্যের প্রচার ও প্রসার এবং বিক্রির জন্য বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত মেলায় অংশগ্রহণ করছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here