মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষার

প্রকৃতির বুকে ছড়িয়ে থাকা সম্পদের ব্যবহার করতে গিয়ে বিপন্ন হতে থাকল আমাদের জঙ্গল, পশুপাখি, জঙ্গলের উপরে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সভ্যতা। সজবু, শ্যামল, সিক্ত আমাদের এই দেশে মানুষ প্রকৃতির থেকে বিচ্ছিন্ন কোনও সত্তা নয়, বরং নিজেকে প্রকৃতির এক অচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে গণ্য হয়েছে।
তাই মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানের কথা।
এই পুণ্যভূমিতে সন্তানস্নেহেই বৃক্ষ থেকে শুরু করে প্রাণীকূল সকলেই লালিত হত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বনভূমির উপরে বারবার নেমে এসেছে আঘাত।
উনিশ শতকে শিল্পবিপ্লব ও নগরায়ণকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের শুরু। তৈরি হয়েছে একের পর এক নগর। মাথা তুলেছে শিল্পাঞ্চল। গাছ কেটে গড়ে উঠল বসতি। তখন থেকেই প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে কোথাও যেন এক দুস্তর ব্যবধান রচিত হয়ে গেল। প্রকৃতির বুকে ছড়িয়ে থাকা সম্পদের ব্যবহার করতে গিয়ে একে একে বিপন্ন হতে থাকল আমাদের জঙ্গল, পশুপাখি, জঙ্গলের উপরে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সভ্যতা— এক কথায় সব কিছুই।
তাই আলোচনায় বারবার ফিরে আসে ‘সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট’ বা স্থিতিশীল ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের কথা। প্রকৃতির উপরে যত বার মানুষের তৈরি করা আঘাত এসেছে তত বারই তার সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। নিজেদের এগিয়ে দিয়ে বলেছে, ‘‘আমাকে আঘাত কর কিন্তু প্রকৃতিকে নয়।’’ আজও সেই আন্দোলনের স্রোত অব্যাহত।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আজও আন্দোলন চলছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশে । অতি সম্প্রতি এক ১৬ বছরের সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থিনবার্গের নেতৃত্বে সংগঠিত আন্দোলন ‘স্কুল স্ট্রাইক ফর দ্য ক্লাইমেট’ সমগ্র বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। সে আন্দোলনের ঢেউ স্পর্শ করেছে বাংলাদেশও ১৫ মার্চ ২০১৯ এ সমগ্র বিশ্বে ১১২ টি দেশের ১৪ লক্ষ পড়ুয়া এই আন্দোলনে যোগ দেয়।
উদ্দেশ্য সরকারকে কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমণ কমানোর বিষয়ে বার্তা দেওয়া। এই আন্দোলন ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার’ নামেও পরিচিতি লাভ করেছে।
দেশের সবুজ আরো বিস্তৃত করতে ও তাকে বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠন সবুজ আন্দোলন। শুধু বৃক্ষরোপন নয়,বরং আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে একত্রিত হয়ে। তবেই আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। তার সার্থক উত্তরাধিকার বহন করবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here