১৩ মার্চ শুক্রবার পূর্বাচলস্থ সী শেল পার্ক যেন হয়ে উঠেছিল একখন্ড রামু। শিশুদের দৌড়াদৌড়ি, মহিলাদের খোশ-গল্প, বড়দের আড্ডা-খুনসুটি, একটি চমৎকার দিনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই ছিল মিলন মেলায়।মনমাতানো সারাদিনের বিশেষ আয়োজনে ছিল রামুর বিখ্যাত মেজবানি ভোজ, পান-সুপারি, জিলেপি ইত্যাদি। বিকেলে মহিলাদের বালিশ খেলার পরপর দুই ঘন্টার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মন কেড়েছে উপস্থিত সকলের। মূল প্যান্ডেলের সংগেই ছিল রামুর পুরনো মুড়ির টিন খ্যাত বাস সমেত ফটো বুথ। যাতে ছবি তুলে সবাই পুরনো স্মৃতিকে রোমঞ্ছিত করেছে সবাই মুহুর্তে মুহুর্তে।

প্রতিবছরের মত এবারো রামু সমিতি-ঢাকা রামুবাসীদের জন্য সারাদিনব্যাপি মিলনমেলার আয়োজন করে যার নাম ছিল “সম্প্রীতির মিলনমেলা-২০২০”।

মজার মজার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সকাল থেকে শেষ বেলা পর্যন্ত আনন্দঘন সময় কাটিয়েছে ঢাকাস্থ রামুবাসীরা সপরিবারে। ঢাকার অদূরে পূর্বাচলস্থ সী শেল পার্কে সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়েছিল সম্প্রীতির এই মেলা। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত রামু সমিতির বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আয়োজন ঢাকায় বসবাসরত রামুবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সকালের নাস্তার পরপর শিশুদের বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হয়। দৌড়, ফুটবল খেলার পাশাপাশি ছিল বড়দের ফুটবল ও মহিলাদের বালিশ খেলা। বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের করার পর অতিথিদের সম্প্রীতির উত্তরীয় পড়িয়ে দেন মিলনমেলার আহবায়ক সাবেক সচিব মাফরুহা সুলতানা। সকালে মেলায় অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে আনুষ্ঠানিকতার সূচনা করে মিসেস মাফরুহা সুলতানা বলেন, রামু সমিতি সত্যিকার অর্থেই রামুর অসাম্প্রদায়িকতাকে ধারণ করে। ভৌগলিকভাবে রামুর সীমানা নির্ধারিত থাকলেও রামু কক্সবাজারবাসীকে নিজেদের মাঝে আপন করে নেয়। তাইতো, রামু সমিতির আয়োজন মানে পুরো কক্সবাজারেরই আয়োজন হয়ে উঠে।

অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান, জাতিসত্ত্বার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, সাবেক সচিব এ এম এম নাসির উদ্দিন, কক্সবাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খুরশেদ আলম প্রমুখ।

সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক তাঁর বক্তব্যে রামু সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, রামু সমিতির এই মিলনমেলায় এসে তিনি যেন তাঁর আত্মার আত্মীয়দের কাছে পেয়েছেন। তিনি রামু সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মরহুম আমিরুল কবির চৌধুরীর কথা স্মরণ করে বলেন, এই সমিতির পেছনের গল্পে অবদান রেখেছেন অনেক স্মরণীয়, বরণীয় ব্যক্তিবর্গ। তাই এই সমিতির পথচলা কখনো পথ হারাবেনা।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, আমি সুদূর কক্সবাজার থেকে এই মেলাতে অংশ নিতেই ছুটে এসেছি। রামুর মুড়ির টিনের ফটোবুথে ছবি তুলে নিজেকে যেন সেই পুরনো বেলায় ফিরিয়ে নিয়েছি। তিনি রামু সমিতির প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, রামু সমিতির যে কোন আয়োজনে তিনি সবসময় থাকবেন।

কক্সবাজার সমিতি, ঢাকার সভাপতি ও রামু সমিতির উপদেষ্টা সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে জানান, রামু সমিতির যে কোন আয়োজন সবসমই সার্বজনীন ও উপভোগ্য। কক্সবাজার সমিতি, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম – রামু সমিতির যে কোন প্রয়োজনে কক্সবাজার সমিতি পাশে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রামু সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সূচনা পর্বে ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সবাইকে রামু সমিতির সম্প্রীতির মিলনমেলার উত্তরীয় পড়িয়ে দেন তিনি।

মিলন মেলার টাইটেল স্পন্সর সেইলর এর পক্ষে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন সমিতির সহ সভাপতি বাবু সুজন শর্মা। এসময় আয়োজনের নেপথ্যে যারা কাজ করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।

মঞ্চে রামু সমিতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সদস্য মোমিনুর রশিদ আমিন কাজল, সহ সভাপতি রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক সাইমুল আলম চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন ফরহাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া বেগম, সাংগাঠনিক সম্পাদক মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিজন শর্মা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক সুপ্ত ভূষণ বড়ুয়া, ক্রীড়া সম্পাদক সাজেদুল আলম মুরাদ, দফতর সম্পাদক নিউটন শর্মা, সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ খুরশেদ আলম প্রমুখ।

দিনশেষে ঢাকাস্থ রামুবাসী আনন্দময় দিন কাটানোর তৃপ্তির স্মৃতি নিয়ে আবারো একত্রিত হবার বাসনা ব্যক্ত করেন। সবার মুখে ছিল একই অনুভূতি– আবার কবে দেখা হবে? রামু সমিতির পরবর্তী অনুষ্ঠান কবে ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here