রাসেল চৌধুরী :

“কোন কালে একা হয়নি জয়ী পুরুষের তরবারি, শক্তি দিয়েছে সাহস দিয়েছে বিজয় লক্ষিনা নারী” এই কথটি চরম সত্যি হলেও আমাদের দেশের মানুষ কোন কালেই মানত না এই অমিয় বাণী। পুরুষ শাসিত এই সমাজে প্রত্যেকের ধারণা ছিল নারী দৌড় হ্যাসেল অবদি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আজ বাঙ্গালী ললনারা যে হাতে চুল বাধেঁ সেই হাতে বিশ্ব জয় করে। বর্তমানে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপশি নারীরাও এগিয়ে। আর দেশের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন দ্রুত। এর মধ্যে বেশিরভাগ নারীই স্বনির্ভরতার জন্য চাকরিতে যাচ্ছেন। আর কিছু নারী এগিয়ে আসছেন ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ব্যবসায়। তারা নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের পাশাপাশি অন্য নারীদেরও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করছেন।

ঢাকার নার্গিস আক্তার  এমনই একজন নারী, যিনি বর্তমানে একজন সফল উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী  ও স্যোশাল ওয়ার্কার।  নার্গিস আক্তার  তার নিজের পরিশ্রম দিয়ে পথে পথে নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে একজন সফল ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তা। ২০০১ সালে নার্গিস আক্তার থাই কালেকশন নামে একটি বিদেশী পণ্যের শপ দিয়ে ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন এর পর তিনি আর কখনোই দমে যাননি । নিজের মেধা, মননশীলতা, কর্মনিষ্ঠা এবং একাগ্র প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

 

মাত্র অল্প পুঁজি নিয়ে “থাই কালেকশন” শপ দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। সেই ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে এখন বৃহত্তর রূপ নেয়। তার প্রতিষ্ঠানে বিদেশী  থ্রি-পিস, ব্লক থ্রি-পিস, হ্যান্ডপ্রিন্ট, ওড়না, ওয়ান পিস, শিশুদের পোশাক, বেডশিট, শাড়ি ও উপহার সামগ্রী, কসমেটিক, বাচ্চাদের নানা পন্যসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে । এছাড়াও তার প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বেশ কয়েকজন নারী।

ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরে  জন্মগ্রহণ করেন নার্গিস আক্তার।  তার পিতা মোজাফ্ফর হোসাইন।স্বামীও একজন সফল ব্যবসায়ী। এক ছেলে ও এক মেয়ের জননীনার্গিস আক্তার ব্যবসার পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছে স্যোশাল ওয়ার্ক।

নার্গিস আক্তার ২০০১ সালে শুরু করে ব্যবসায়  ‘ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রশংসা দেখে তার মনোবল এবং কাজ করার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বের নানা দেশ দেশী কালেকশন এনে ব্যবসায়ের পরিধি প্রসারিত হতে থাকে।  বর্তমানে তার ব্যবসার পরিসর খুব বেশি না হলেও অল্প সময়ের মধ্যে অনেক ভালো পর্যায়ে যেতে পেরেছেন। দিন দিন ব্যবসার পরিসর বাড়ছে। বর্তমানে আমি অর্থনৈতিকভাবে বেশ স্বাবলম্বী। তাছাড়া অনেকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছেন। আমার মাসিক আয় প্রায়  পাঁচ লক্ষাধিক টাকা। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এবং বিদেশে পণ্য সরবরাহ করি। এছাড়া পণ্যের প্রচার ও প্রসার এবং বিক্রির জন্য বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠিত মেলায় অংশগ্রহণ করছেন। আমাদের সাথে আলাপ চারিতায় নার্গিস আক্তার  বলেন, ‘আমি চাই আমার ব্যবসার আরো প্রসার হোক। স্বাবলম্বী হয়ে বেঁচে থাকার স্বার্থকতাটাই আলাদা। তাই বলবো, একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে হবে। প্রতিবন্ধকতা থাকবেই, তবে ইচ্ছা থাকলে তা অতিক্রম করা সম্ভব। আপনি যে কাজ ভালো পারেন এবং আপনার কাছে যত কম টাকাই থাক না কেন, সেটা দিয়েই শুরু করুন। কারণ কাজ শুরু না করলে কেউ জানবে না যে আপনি কাজ করতে পারেন বা কাজ করতে চান।’

আজ এই সফল নারীর শুভ জন্মদিন। নার্গিস আক্তারের জন্ম দিনে এমবি টিভি মুখোমুখি হয় তার জানতে চাই সফলতার গল্প যা হুবুহু তুলে ধরা হল …..

ব্যবসায় চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একজন নারীকে ঘরের বাইরে কাজ করতে হলে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। প্রথমেই বাধা আসে পরিবার থেকে। এরপর সমাজ আর রাষ্ট্র তো আছেই। আমার বেলাতেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাকে। শুরুতে আমাকে বলা হতো তুমি পারবা না, এসব করে কোনো লাভ নেই, অনেকের জীবন এভাবে নষ্ট হয়েছে … আরও অনেক কিছু। কিন্তু আমি কখনো আত্মবিশ্বাস হারাইনি। লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি। আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, আমি কাজে সফল হবোই। তাই আমি আজ সফল।

সফল উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, স্যোশাল ওয়ার্কার নার্গিস আক্তারের শুভ জন্ম দিনে এমবি টিভি পরিবার জানাচ্ছে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here