এম আমিনুর রহমান

যারা ভাবছেন বাংলাদেশে করোনা পরিস্খিতি ১/২ সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হবে এবং ধুমাইয়া আগের মত আনন্দ ফুর্তি করতে পারবেন তারা হয়তো বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারছে না।

মুলত বাংলাদেশে গত কয়েকদিনের সন্দেহাতীত পরীক্ষা এবং করোনা রোগী বৃদ্ধি এর হার বিবেচনা করলে সেটা যে কতটা ভয়াবহ রূপ ধারন করছে তা কল্পনারও বাহিরে। দেখা যাবে আজ যিনি ফুর্তি করার জন্যে ফেসবুকে মোজ মেরে পোস্ট করে ঘাপটি মেরে বসে আছেন তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়ে আছে হয়তো টেস্ট করতে পারছেন না বলে ধরতে পারছেন না।

গত দুই তিনদিনে ক্ষুদার্থ মানুষের আহাজারী দেখলে বাস্তবতা কত ভয়ংকর হবে তা ভাবলে গা আরো শিহরিয়ে উঠে। এখন যারা বিক্ষোভ করছে তারা হয়তো নিম্ন আয়ের মানুষ যারা মোটেও খাবার মজুদ করতে পারেনি। আর ৬/৭ দিন পর যখন মধ্যম আয়ের মানুষদের মজুদ করা খাবার শেষ হয়ে গিয় দিশেহারা হবে তখন তারাও এই বিক্ষোভকারীদের সাথে একত্রিত হবে। তখনের অবস্থাটা একবার কল্পনা করেন। যাদের কাছে জমানো কিছু টাকা আছে তাদের টাকা যখন শেষ হবে তখন তারাও একত্রিত হবেন এ মিছিলে।

প্রবাসীদের পরিবারও খুব বেশীদিন টিকে থাকতে পারবে বলে মনে হয় না কারন এমনও প্রবাসী পরিবার আছে যারা একমাসে টাকা না দিলে পরের মাসে খেতেও পারবে না। সে জায়গায় প্রবাসীরা আগামী কতমাস পরে কাজে যোগদান করতে পারবে কিংবা টাকা পাঠাতে পারবে তারও ঠিক নেই। উপলব্ধি করতে পারছেনতো অবস্থাটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? চোখটা বন্ধ করুন টের পাবেন।

আপনার কাছে টাকা আছে, চাইলেই কিনতে পারবেন হয়তো কোন জিনিস, কিন্তু আরেকটা বিষয় খেয়াল করছেনতো, সব ধরনের শুকনো খাবার, সবজি জাতীয় জিনিসের উৎপাদন, সরবরাহও মোটামোটি বন্ধ। যা সরবরাহ হচ্ছে তাও প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। সরবরাহ যদি ঠিকমত করতেই না পারে তবে আপনার কাছে টাকা থেকেও লাভ নেই। না খেয়েই মরতে হবে। মজুদ করা খাবার কতদিনই চলবে বলুন যেখানে সবাই ক্ষুদার্থ। বসে খেলে রাজার ধনও ফুরিয়ে যেতে সময় লাগে না।

তো এবার ভাবুন আপনি কি লকডাউনের পরে ঈদ উদযাপনের নামে কে কোথায় ঘুরতে যাবেন, কে কার সাথে কফি গিলবেন আর কাকে লান্স ডিনারের সাথে লং ড্রাইভে যাবেন সেটা ঠিক করবেন নাকি অতি সন্নিকটে ঘটতে যাওয়া দুর্ভিক্ষ এবং মৃত্যুর মিছিলের সাক্ষী হবেন। আপনার বিবেককে বিবেকের জায়গায় বসিয়ে প্রশ্ন করুন উত্তর পেয়ে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here